নাটোরের গুরুদাসপুরে স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ হোসেনকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ঘটনার তথ্য গোপন ও আলামত নষ্টের অভিযোগে নিহত মরিয়মের শ্বশুর ফজলুর রহমান (৫৫) ও শাশুড়ি ফাহিমা বেগমকে (৪৭) দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সাথে একই উপজেলার বামনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল মণ্ডলের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মরিয়মের ওপর নির্যাতন চালাতেন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি।
২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশীর মোবাইলফোনে খবর পেয়ে মরিয়মের বাবা আমিরুল মণ্ডল মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শয়নকক্ষের মেঝেতে মরিয়মের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে এ সময় বাড়িতে নিহত মরিয়মের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে পাওয়া যায়নি।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন (নিহতের স্বামী), ফজলুর রহমান (শ্বশুর) ও ফাহিমা বেগমকে (শাশুড়ি) আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আমিরুল মণ্ডল।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
নাটোর জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে দেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।



