জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ডিমলায় গণমিছিল ও সমাবেশ

সমাবেশে বক্তারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Nilphamari
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উপজেলা ১১ দল গণমিছিল আয়োজন করে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উপজেলা ১১ দল গণমিছিল আয়োজন করে |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর ডিমলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ চত্বর থেকে গণমিছিল শুরু হয়।

গণমিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিজয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সংবিধান সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী রুকনুজ্জামান বকুলের পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নায়েবে আমির কাজী হাবীবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ছাদের হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ছাদের হোসেন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সেই চেতনাকে উপেক্ষা করে দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী শক্তির উত্থানের অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেয়া রায় দ্রুত কার্যকর এবং প্রতিশ্রুত সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করা সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। অন্যথায় জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথেই গণআন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দেয়া হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকার ব্যর্থ হলে তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী হাবীবুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি নেতাকর্মীদেরকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা আহ্বায়ক শাহ আজিজুর রহমান বলেন, কেউ নতুন করে স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রদর্শনের চেষ্টা করলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এনসিপির উপজেলা সদস্যসচিব রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের জন্যই ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সাথে তিনি জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা জাহেদুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে জেলা শিবির সভাপতি মাওলানা ওয়াহেদুজ্জামান বাবুল, ডিমলা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন লেবু ও ছাত্রশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক তুষার ইমরান বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আব্বাস আলী, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা তাইয়্যবুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আফছার আলীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।