মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
উন্নত জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
নিহত দু’জন হলেন— উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বানু প্রামাণিকের ছেলে মফিজ (২২) ও সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ (২৮)। নিহত আরিফের দুই বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) নিহত দুই যুবকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের দাবি, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠানো হলেও পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে নেয়া হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৭ বা ৮ মে জীবিকার তাগিদে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মফিজ ও আরিফ। রোববার (১৪ জুন) পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত মফিজের ছোট ভাই মেহেদী বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার সাত দিন পর একবার ফোন করেছিলেন মফিজ। তখন তিনি বলেছিলেন, তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। এরপর দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। সর্বশেষ গত ২৯ মে ফোন করে মফিজ জানান, তাকে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
মেহেদী আরো বলেন, আমরা শুনেছি হামলায় ১০ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে আমার ভাইও রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা চাই।
মফিজের চাচা বাবু অভিযোগ করে বলেন, উন্নত জীবনের আশায় তার ভাতিজা রাশিয়ায় গেলেও তাকে কাজ দেয়া হয়নি; বরং তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মফিজের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
অপরদিকে নিহত আরিফের বাবা তারা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দালালরা আমার ছেলেকে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন শুনছি সে মারা গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমার ছেলেকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
আরিফের বোন খাদিজা বলেন, আমার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশী একসাথে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাদের আর্মি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আমার ভাই অনেক অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তার লাশ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এদিকে, নিহতদের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি ও লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।



