শঙ্খ নদের ভাঙনে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতে মাঝির ঘাট থেকে নাপিত খাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে মাঝির ঘাট এলাকায় বাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদের পানি বেড়ে যায়। এর সাথে জোয়ারের প্রবল স্রোত থাকায় জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। মাঝির ঘাট থেকে নাপিত খাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থান ইতোমধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাঝির ঘাট এলাকায় প্রায় ৫০০ ফুট বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে মৎস্য ঘেরের মালিক ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি আরো বাড়লে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝির ঘাট এলাকায় শঙ্খ নদের প্রবল স্রোতে বাঁধের বড় একটি অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশেও একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি বাড়লে এসব দুর্বল অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, বাঁধ ভেঙে গেলে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতঘর, মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, ‘গত ২০ বছরে নদীভাঙনে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবার বাঁধে যেভাবে ফাটল ধরেছে, তাতে আমরা আতঙ্কে আছি। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ শঙ্খ নদে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাঝির ঘাটের ভাঙনকবলিত এলাকা সার্ভে করে ডিপিপি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওতক ইবনে শাহীদ বলেন, ‘বাঁধে ফাটলের বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বস্তায় বালু ভরার কাজও শুরু হয়েছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী জোয়ারে বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।



