কক্সবাজারের মাতামুহুরি (চকরিয়া থেকে বিভক্ত) উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ, বলাৎকার ও হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬১ ধারায় পুলিশ ও ২৬৪ ধারায় আদালতের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) চকরিয়া থানায় নিহত শিশুর বাবা তৌহিদুল ইসলাম (৩৩) মামলাটি দায়ের করেন।
গ্রেফতার তিনজন হলেন— পূর্ব বড় ভেওলা এলাকার মরহুম দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ছৈয়দ হোসেন ওরফে মানিক ওরফে কাবিলা, আজিজুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম ও মরহুম জহির ইসলামের ছেলে মো: আরমান। তিনজনকেই তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের এলাকায় খেলতে বের হয়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিনও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। আটক এক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার মাতামুহুরী খালের পাশে একটি পানিভর্তি গর্ত থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করার পর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালের পাশের ওই গর্তে ফেলে রাখা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেফতার তিন আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ, বলাৎকার ও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে চকরিয়া অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবউদ্দিন মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জানান, শিশু ওয়াহিদের হত্যাকারিদের আইনি সহায়তা দেবে না চকরিয়া চৌকি আদালতের আইনজীবীরা। তারা দ্রুত তাদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।



