কুলাউড়ায় প্রবাসীর বাবা-মায়ের ওপর আ’লীগ কর্মীর হামলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে নাজিম আহমদ নামে এক প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ময়নুল হক পবন, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

Location :

Kulaura
অভিযুক্ত জালাল আহমদ লুলু
অভিযুক্ত জালাল আহমদ লুলু |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে নাজিম আহমদ নামে এক প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর রাতে প্রবাসী নাজিমের বাবা ভুক্তভোগী গৌছ মিয়া (৬২) বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী জালাল আহমদ লুলু ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে অভিযুক্ত করে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী নাজিম আহমদের বাড়ির রাস্তার সীমানায় এসে তার বাবা গৌছ আলীর সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝগড়া সৃষ্টির জন্য রাস্তার সীমানা থেকে জোরপূর্বক বেড়া উপড়ে ফেলে দেয় জালাল আহমদ লুলু। তখন গৌছ আলী বাধা দিলে লুলু গং উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করার হুমকি প্রদান করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে লুলু গং পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গৌছ আলীর বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রবেশ করে গৌছ আলী ও তার স্ত্রী জোছনা বেগমকে (৫৫) এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত জালাল আহমদ লুলু গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদ মিয়ার ছেলে। জালাল আহমদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মনসুরের পিএস পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রবাসী নাজিম আহমদ বলেন, ‘জালাল আহমদের হুমকিতে আমার পরিবার বর্তমানে আতঙ্কিত ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি প্রশাসনের কাছে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিরাপত্তা চাই। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জালাল আহমদ লুলু মুঠোফোনে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছে কে অভিযোগ করেছে? আপনি কি থানা, ডিবি, না পিবিআই? এসব বিষয়ে আমার সাথে কোনো কথা বলবেন না।’

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’