রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকারের কুড়িগ্রাম, রংপুর ও ঢাকায় শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের হাতে। তার এখনকার দৃশ্যমান সম্পদ ১৫ বছরের চাকরি জীবনের বেতনভাতার চেয়ে দুইশ গুণ্যেরও বেশি। অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরের পরও আছেন বহাল তবিয়তে। চেষ্টা করছেন ম্যানেজের মাধ্যমে পার পেতে। দুদক বলছে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। তবে পিআইও মনিরুজ্জামানের দাবি, ‘তার এসব বৈধ সম্পদ’।
এদিকে ডিসি অফিস সূত্র জানিয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৬ মাস আগে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মনিরুজ্জামানের আগামী তিন বছরের জন্য ইনক্রিমেন্ট হেল্ডআপ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগপত্র এবং তথ্যানুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দুদক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সরকারের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য পেয়েছে। যা তার ১৫ বছরের চাকরি জীবনের বেতন-ভাতার আয় ও ব্যয়ের চেয়ে দুইশ গুণ্যেরও বেশি।
রংপুরে যত সম্পদ
দুদকে হওয়া অভিযোগ এবং অনুসন্ধানে মিলেছে মনিরুজ্জামান রংপুর মহানগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় ৭ নম্বর রোডের ৫২ নম্বর ‘জান্নাত’ নামের তিনতলা বাড়ি বানিয়েছেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। এছাড়াও নগরীর কলেজ রোডে মুনিবা ছাত্রাবাস নামে আছে ৩ তলা বিল্ডিং। যার বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা। নগরীর বিনোদপুরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। যার খতিয়ান নম্বর ৯০১, দলিল নং ৩৭১১, বাজারমূল্য ৬০ লাখ টাকা। আলমনগর মৌজায় ৬ শতকের একটি প্লট আছে, যার খতিয়ান নম্বর- ১৬১০০, দলিল নং ৩৭১২/২০১৮। বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা। স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে কিনেছেন নগরীর বিনোদপুর মৌজায় ৭ শতকের একটি প্লট। যার খতিয়ান নম্বর- ১০৭১। যার বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা।
কুড়িগ্রামে যত সম্পদ
দুদকের তথ্য ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাচাবান্দ মৌজায় ৬২ শতক জমি রয়েছে মনিরুজ্জামানের। যার খতিয়ান নম্বর-২২৪৩ দলিল নম্বর-৫৩০, ৫৪৫, ১১৮২। এ জমির বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা। উলিপুর উপজেলার উলিপুর মৌজায় রয়েছে ৩ শতক জমি। যার খতিয়ান নম্বর-১২৩৮ দলিল নম্বর-১৬০১, ২৬৫৩, বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে উলিপুর উপজেলার সিদ্ধান্ত মালতী বাড়ির মৌজায় ১৩ শতক জমি কিনেছেন মনিরুজ্জামান। যার খতিয়ান নম্বর-২০২৬-১০০০০৭ দলিল নং-৪০৮১/২৫, বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকার উপরে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের শাপলা চত্বরে বাবর টাওয়ারের নিচতলায় মনিরুজ্জামান কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফার্মেসির ব্যবসা করেন। এছাড়াও তার মালিকানাধীন রয়েছে ৬টি মাইক্রোবাস। বিভিন্ন রেন্ট-এ-কারের মাধ্যমে ভাড়ায় চলে। মনিরুজ্জামান নিজে অর্ধকোটি টাকার গাড়িতে চলাফেরা করেন। অন্যদিকে মনিরুজ্জামান নিজ এলাকা চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দার আদর্শগ্রামে দোতলা বাড়ি করেছেন।
ঢাকায় যত সম্পদ
দুদকে দেয়া অভিযোগের নথিপত্র ও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেডের কাছ থেকে মিরপুর রূপনগর মিল্কভিটা রোডে ২৮ (এবিসি হোমস) ৬ষ্ঠ তলার উত্তর-পূর্ব দিকের ১৪৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ও নিচতলার ১২০ বর্গফুটের একটি কারপার্কিংসহ ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার দলিল নম্বর- ১১৬১২ ও বাজারমূল্য ২ কোটি টাকা। এছাড়াও মনিরুজ্জামান এসব বিপুল অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ক্লাবের মেম্বার হয়েছেন।
দুদকে দেয়া নথিপত্র এবং অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির আগে তেলের পাম্প ব্যবসায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন মনিরুজ্জামান। স্ত্রী আরফাতুন নাহারের বড় ভাই রায়হানকে বাড়ি করে দিয়েছেন। এর বাইরেও নামে-বেনামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরও বেশ কিছু সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। সেগুলোর অনুসন্ধান চলছে।
দুদক অনুসন্ধানে পেয়েছে, মনিরুজ্জামান সরকার এসব অবৈধ সম্পদ বৈধ করার জন্য নামমাত্র ঋণ নিয়েছে ব্যাংক থেকে। মনিরুজ্জামান সরকার ও স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেসবের তথ্য তালাশ করছে দুদক।
যেভাবে চাকরি
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দার আদর্শগ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান ২০১১ সালের ৭ জুলাই অ্যাডহক ভিত্তিতে উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায়। ৬ মাস পর স্থায়ী হয়ে যোগ দেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায়।
অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার কিছু সূত্র
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, কাহারোল উপজেলায় যোগদানের পরই বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে তুমুল দ্বন্দ্বে জড়ান। এরপর সাবেক এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের ডিওলেটারে বদলি হন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়।
দুদক সূত্র জানায়, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪-১৬ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ কোটি টাকার টিআর ও কাবিখার বিশেষ প্রকল্প আসে। যার অধিকাংশই আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব পায় তৎকালীন দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়। কিন্তু মনিরুজ্জামান সেই তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেন। এরপর সেই সময়কার ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সুপারিশে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। সেখানে যোগ দিয়ে তৎকালীন মহাপরিচালকের আস্থাভাজন হন। গড়ে তোলেন ডিজির মাধ্যমে পিআইওদের বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট। শুরু হয় অর্থ আয়ের নতুন পথ। সারা দেশের পিআইওদের বদলি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন মনিরুজ্জামান সরকার।
মিঠাপুকুরে যেভাবে কামিয়েছেন টাকা
দুদকের অনুসন্ধান সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মিঠাপুকুরের শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় টিআরের ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শওকত হোসেন। তাকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শওকত হোসেন। একইভাবে শুকুরেরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়ও উন্নয়নের জন্য টিআরের ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও দুই দফায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানান ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান সহকারী শিক্ষক আবদুল কাইয়ূম।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ঠাকুরবাড়ি বাজার হতে পূর্ব জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্য কাবিখা ও কাবিটার তিন দফায় ২০ টন ১৭৪ কেজি গম এবং ২ লাখ টাকা, বড়বালা ইউনিয়নের তাজুলের বাড়ি হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার, রানীপুকুরের বুজরুক নূরপুর বাড়ি হতে মনজুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ভরাটের জন্য ৩ লাখ, ইমাদপুর ইউনিয়নে মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, উপজেলা পরিষদ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১৩ টন গম বরাদ্দসহ অন্তত আরও ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার করে টাকা আত্মসাৎ করেন পিআইও মনিরুজ্জামান।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মনিরুজ্জামান সাবেক এমপি জাকির হোসেন সরকারের কাছ থেকে টিআর ও কাবিটার ১৪ লাখ টাকা এবং কাবিখার ১৩ টন গম বরাদ্দ নেন। যার কাজ দেখানো হয় উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ টাকা, ইমাদপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ১৩ টন গম। এসব প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের। কিন্তু কাজ না করে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছিলেন পিআইও।
দুদক নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পিআইওর কার্যালয়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে একই কাজের জন্য তিন দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে হয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নথিপত্রে দেখা যায় তিন দফায় প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েও কোনো কাজ করেননি পিআইও মনিরুজ্জামান। শুধু তাই নয়, টিআর প্রকল্প থেকে দুই দফায় কম্পিউটার কেনার জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন মনিরুজ্জামান। এছাড়াও মন্ত্রণালয় থেকে কম্পিউটার কেনার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ আনেন। সেটাও ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মিঠাপুকুরের বিভিন্ন ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এনআরবিসি ব্যাংকের মিঠাপুকুর শাখায় প্রায় ৩ কোটি টাকা রেখেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে রংপুরসহ সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তুমুল বিতর্কের পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্পের ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন না করেই টাকা ছাড় দিয়েছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হতো।
শুধু তাই নয়, দুদক নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছে পিআইও মনিরুজ্জামান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের এপিডির দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন। চারটি ব্যাংকে মিলেছে কোটি কোটি টাকা লেনদেন।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘একজন সরকারি অষ্টম গ্রেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকার ১৫ বছরে তার বৈধ আয় বেতন-ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টাকা হতে পারে। সেখান থেকে যদি অর্ধেকও খরচ ধরি, তাহলে তার বাড়তি সম্পদ হওয়ার কথা ৪৫ লাখ টাকার। কিন্তু তিনি ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে ফ্ল্যাট, বিল্ডিং, জমি, ফার্মেসি ব্যবসা, গাড়ি ব্যবসাসহ বিভিন্নভাবে শত কোটি টাকার মালিক হলেন। অর্থাৎ তার বর্তমান সম্পদ তার আয় ও ব্যয়ের চেয়ে দুইশ গুণেরও বেশি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এখনও তিনি কীভাবে চাকরিতে বহাল রয়েছেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তাকে দ্রুত বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা নাহলে তিনি প্রভাব বিস্তার করে পুরো ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবেন। এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না।’
এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ‘কারও আয়ের সাথে যদি অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ থাকে, এ বিষয়গুলো দুদক বা এ ধরণের এজেন্সির খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাকে অবশ্যই এসব সম্পদ কীভাবে অর্জন করলেন তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।’
এসব বিষয়ে মনিরুজ্জামান সরকারের সাথে কথা বলতে একাধিকবার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। আমার সকল সম্পদ বৈধ। আমার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। আমার সকল সম্পদের তথ্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ব্যবসা করতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘মিঠাপুকুরের পিআইও মনিরুজ্জামানের বিষয়ে আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি। তবে আমার জায়গা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি উইং আছে। তারা বিষয়টি দেখছে। এছাড়াও দুদক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আমরা কোনো ধরণের অনিয়মকে বরদাশত করব না।’
তিনি আরো জানান, ‘মাস ছয়েক আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশে আগামী তিন বছর তার ইনক্রিমেন্ট হেল্ডআপ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এ বিষয়ে দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: শাওন মিয়া জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় এসেছে। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। অনুসন্ধান করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ‘বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখে আমি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে (ডিআরআরও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’



