মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম। তিন বছর ধরে হয়রানি, হামলা, মামলা ও সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার। এই অভিযোগ এনে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর স্থানীয় যুবক রুমন মিয়া তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রুমন মিয়া ও তার সহযোগী আফজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
তার লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, এলাকার হাবিব মিয়ার সাথে বিয়ে হওয়ার পর অভিযুক্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে, তার স্বামী, ভাই মেরাজ মিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফাতেমা।
গত ১৫ এপ্রিল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ফাতেমা বেগমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও অভিযুক্তদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফাতেমা বেগমের দাবি, রুমন মিয়া কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে আপসের নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হলেও তার যথাযথ তদন্ত ও আইনগত অগ্রগতি হয়নি। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করেছেন। অভিযুক্তরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বেপরোয়াভাবে ঘোরাফেরা করে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



