নোয়াখালীর হাতিয়ায় প্রধান সড়কের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলা সদরের আদালত ভবন সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— এনসিপির শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক নীরব, সুখচর ইউনিয়ন এনসিপির সদস্য সচিব ইসমাইল, এনসিপি নেতা হৃদয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শামীম, কর্মচারী নাহিদ ও সোহরাব।
জানা যায়, হাতিয়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ কিলোমিটার প্রধান সড়কের উন্নয়নের কাজ পায় ‘মেসার্স জামান ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি তদারকি করে আসছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ।
উপজেলা সদরে কাজ হওয়ায় এর মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এমনকি কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয় নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের সব সময় সরব থাকতে দেখা যায়।
পূর্বের ধারাবাহিকতায় আজ উপজেলা সদরের আদালত ভবনের সামনে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় এনসিপির শ্রমিক শক্তির নেতা আবির ও ইসমাইল কাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা ইকবাল উদ্দিন রাশেদের ছোট ভাই রুবেলের সাথে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন আহত হন। এদের মধ্যে এনসিপি নেতা ইসমাইলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ বলেন, ‘রাস্তার কাজটি প্রায় তিন মাস আগে শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকবার এনসিপি নেতারা ত্রুটি আছে বলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠকও হয়, কিন্তু তারা কাজের কোনো ত্রুটি দেখাতে পারেননি। স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে অনেকটাই বিরক্ত। তারা চান কাজটি যেন অতি দ্রুত শেষ হয়। কিন্তু এনসিপি নেতাদের বাধার কারণে বারবার ব্যাঘাত ঘটছে। আজকে তারা মূলত চাঁদার (টাকার) জন্য কাজটি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। এতে আমার ছোট ভাইয়ের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। তাদের হামলায় আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন।’
অন্য দিকে শ্রমিক শক্তির নেতা আবির বলেন, ‘এখানে খুবই নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছিল। যে গাইড ওয়াল করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল। এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা সহকারীকে খুঁজলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে কল দিলে তিনি বলেন— ‘আমার কিছু করার নেই, আপনারা জেলায় কথা বলেন।’ এরপর আমি জেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ফোন দিলে তিনিও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন আমরা আপাতত কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করি। এতে তারা উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর নোয়াখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: মহিবুল্লাহ সুমন বলেন, ‘যে গাইড ওয়াল নিয়ে আজকে আপত্তি উঠেছে, সেটি নিয়ে দুই দিন আগেও আপত্তি উঠেছিল। আমাদের নির্দেশে ঠিকাদার ইট পরিবর্তন করে নতুন ইট এনে কাজ শুরু করেন। তাই আজকে এই বিষয় নিয়ে নতুন করে আপত্তি তোলার কথা নয়।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি।’



