ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা সদরের আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বের হলে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে আগে থেকে অবস্থান নেয়া জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিকের সমর্থকরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়া শুরু করে। এতে মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক ডেসটিনির জেলা প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, দৈনিক গণমুক্তির দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন টিপু, দৈনিক মানবকণ্ঠের দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি এম রহমান সোহেল ও দৈনিক ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন আহত হন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন, তার স্ত্রী সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দল নেত্রী জাহানারা বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিক দল নেতা বাদশা, রিজন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শুক্কুর ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সুজন।
অপরপক্ষে ফটিক গ্রুপের রাব্বি, রিয়াজ, ফজলু, রায়হান, নাঈম ও হুমায়ুনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সভা শেষ করে বের হওয়ার পর কোনো উস্কানি ছাড়াই ফটিকের লোকজন আমাকে ও আমার স্ত্রীসহ নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত এ হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছি।
হামলায় আহত উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জাহানারা বেগম জানান, আমরা সবাই অনুষ্ঠান শেষ করে বের হয়েছি। এমন সময় রাস্তার অপর পাশ থেকে আমাদের দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়া শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরে মুহু মুহু ইটমারা আরম্ভ করে। এতে আমার পিঠে বেশ কয়েকটি ইটের আঘাত লাগে। এখন আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
আহত সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন টিপু জানান, আমরা ইটপাটকেল নিক্ষেপের ছবিও, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের ওপর তারা চড়াও হয়। এ সময় ইটের আঘাতে আমার পায়ে রক্ত ঝরা শুরু করে। তাছাড়া আমাদের অনেক গণমাধ্যমকর্মীর মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছে। যদিও পরে তা ফেরত দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মৎস্যজীবী দলের আয়োজনে আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল। এজন্য নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিল। অপর দিকে আকবর হোসেন প্রোগ্রাম শেষ করে বাজারে মহড়া দেয়ার জন্য বের হন। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে আমাদের ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল জানান, আমরা অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পরেই দুই পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছি। এ বিষয়ে যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে দল তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, হামলার বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



