চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদা না পেয়ে এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর শনিবার যুবদল নেতা মো. রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন দর্শনা পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হুমায়ুন (৪৫), দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য মো: রাকিবুল হাসান ব্রাইট (৩৮) এবং কলেজ ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ আমিন (২৩)।
এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগর (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে আটক করা হলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দর্শনা রেল ইয়ার্ড এলাকায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও আমদানি-রফতানিকারক রফিকুল ইসলামের বসতবাড়ি ও অফিসে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর করে অফিস কক্ষ থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং দুটি স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, এ সময় কার্যালয় ও বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সম্প্রতি ‘মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন’-এর আমদানি করা পাথরের চালানের কাজ পাওয়ার পর তার ওপর চাপ আরো বৃদ্ধি পায়। মদিনা ট্রেডিংয়ের চেয়ারম্যান তাকে দর্শনা পোর্ট দিয়ে পণ্য খালাসের দায়িত্ব দেয়ায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রায়হানের সাথে বিরোধ তৈরি হয়।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা প্রথমে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দিলে বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং তাকে ও তার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এ বিষয়ে আগে থেকেই দর্শনা থানা ও ডিবি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। হুমকির কারণে এক রাতে তার অফিসে পুলিশ পাহারাও দেয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও নতুন করে সহিংসতা এড়াতে দর্শনা শহর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দফতর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য মো: রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



