জামিনে বেরিয়ে ফের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

ব্রাহ্মণপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও ছেলেকে কুপিয়ে জখম

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও তার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

Location :

Brahmanpara
অভিযুক্ত গাজী মো: শাহিন ওরফে শাহিন (৩০)
অভিযুক্ত গাজী মো: শাহিন ওরফে শাহিন (৩০) |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও তার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত ইউপি সদস্য মো: আবুল বাসার (৬০) বাদী হয়ে দুলালপুর গ্রামের গাজী মো: শাহিন ওরফে শাহিন (৩০), গাজী মো: শামীম ওরফে শামীম (৩৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি শাহিন ও শামীমের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে শাহিন সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তির পর থেকে মামলা পরিচালনা ও জামিনের খরচ বাবদ ইউপি সদস্য আবুল বাসারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন জুমার নামাজ শেষে আবুল বাসার ও তার ছেলে মো: সোহেল রানা (২৬) বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সুইচগিয়ার ও লাঠিসোটাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ইউপি সদস্য আবুল বাসার ও তার ছেলে সোহেল রানা গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চাঁদা না দিলে তাদের হত্যা ও গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত ইউপি সদস্য আবুল বাসার বলেন, ‘হামলাকারীদের ভয়ে বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন বলেন, ‘শাহিন ও শামীমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গাজী শাহিনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।’