পাইকগাছায় নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি

শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা)

Location :

Paikgachha
নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি
নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে লোনা পানি |নয়া দিগন্ত

চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙে গেছে। এতে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার শংকরদানা খেয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই অংশ দিয়ে লোনা পানি অভ্যন্তরের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের দুই দশমিক ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই সড়কটি দুই কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমফান প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।

কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দুর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয়। মাঝপথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজনিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় দুই-তিন শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত এক কিলোমিটার এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ রীতিমতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবাসহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।

স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মাণাধীন সড়ক ভাঙনের কারণ হলেও এর জন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের দীর্ঘসূত্রতা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এই সঙ্কট। তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

Topics