গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিয়ে করার ১ দিনের মাথায় আবু সালেম প্রধান (২৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের মধ্য মিরুপাড়া গ্রামের ইসাহাক আলী প্রধানের ছেলে আবু সালেম কাটাখালী বালুয়াহাটে অবস্থিত ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার (২৪ আগস্ট) পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা মালেকাবাদ গ্রামের আয়েজ উদ্দিন প্রধানের মেয়ে শিমুলী আক্তারকে (২৪) বিয়ে করেন।
পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বালুয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও সালেম বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা-মা ও নববধূসহ পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সালেমের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাড়ির লোকজন আরও চিন্তায় পড়ে যান।
এরই একপর্যায়ে জুমার নামাজের পর দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কসংলগ্ন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে হাওয়াখানা নামক স্থানে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের আলীহাট হাতিয়াদহ গ্রামের সেকেন্দার আলী বাবুর কলাবাগানের মধ্যে একটি ইউক্যালিপটাস গাছের ডালের সাথে গলায় লুঙ্গি দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় গ্যাবাডিনের ফুলপ্যান্ট ও কলারওয়ালা হাফহাতা গেঞ্জি পরিহিত এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে লাশটি এক নজর দেখার জন্য আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে ভিড় করে।
পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার মীর কায়েস এবং এসআই শাহজাহান আলীসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুলন্ত লাশটি সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি সম্পন্ন করে।
নিহত সালেমের পরিবারের লোকজনের দাবি—পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর লোক দেখানোর জন্য লাশের গলায় ফাঁস লাগিয়ে গাছের ডালের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট জোর দাবি জানান তারা।
স্কুলশিক্ষক আবু সালেমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’



