তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেয়া এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে প্রশংসিত হওয়ার একদিন পরই পুরস্কৃত হলেন সেই পুলিশ সদস্য কনস্টেবল অমিত হাসান। সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন ও অর্থ পুরস্কার দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনস্টেবল অমিত হাসানের হাতে সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন ২৪ বছর বয়সী এক নারী। ঘটনাটি চোখে পড়ার পর এক মুহূর্তও দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দেন কনস্টেবল অমিত হাসান। সাঁতরে ওই নারীর কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে একটি নৌকার সহায়তায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন তিনি। পরে দ্রুত তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল অমিত হাসানের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলি হওয়ায় তার বিদায় উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে ব্যাচমেট কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী, মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাঁরা দেখতে পান, এক নারী ব্রিজ থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অমিত হাসান নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবল ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ওই নারী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। অমিত হাসান তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে ওই নারীকে তাঁর মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামের ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
কনস্টেবল অমিত হাসান নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আব্দুর রউফ বলেন, ‘তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেয়া নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করায় কনস্টেবল অমিত হাসানকে তার সাহসিকতা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।’
একজনের জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সেই সাহসিকতার ঘটনার একদিন পরই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অমিত হাসানকে দেয়া হলো এই স্বীকৃতি। এতে সহকর্মীদের মধ্যেও তার সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।



