কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো: হৃদয়ের (২৪) হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিওড়া রাস্তার মাথায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক বেরিকেড দেয় বিক্ষোভকারীরা।
চিওড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শাকতলা গ্রামের সমাজসেবক নেছার আহমেদ বিডিআর, ব্যবসায়ী ইউনুছ লিপন, আবদুস সালাম বেলাল, প্রবাসী মো: শাহীন ও ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ।
স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ হোসেন নয়নের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম লিটন, জাকারিয়া সাইফুল, ব্যবসায়ী মো: শহীদ, সমাজসেবক জাফর আহমেদ, ব্যবসায়ী হোসনে এলাহী, মফিজুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, মো: নয়ন, ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম, আলামিন হোসেন রাকিবসহ শাকতলা গ্রামবাসী ও চিওড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুব সমাজ।
বিক্ষোভকারীরা ঘটনার মূল আসামি মো: রাজিবকে গ্রেফতার করতে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেয় বিক্ষোভকারীরা।
মানববন্ধন চলাকালীন উপস্থিত হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সিএনজিচালক হৃদয় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি রাজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করা আপনাদের অধিকার। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। মূল আসামি রাজিবসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’
নিহত হৃদয়ের ভাই মো: ফারুকের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মো: নয়ন মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেলের দোকানে যায়। এ সময় ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ মোটরসাইকেল নিয়ে বিপরীত দিকে থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ঝামেলা মিটিয়ে দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজিচালক শাকতলা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছেলে মো: হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।
একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। তখন অটোরিকশাচালক মো: হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করে। এ সময় মো: রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে তা দিয়ে স্বজোরে হৃদয়ের বুকের ডান পাশের পাজরে আঘাত করেন।
এতে হৃদয় চিৎকার দিয়ে রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকেন। এ সময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে উদ্ধার করে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় রাজিবকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার তিনজন হলেন— চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকার রিয়া নামে এক বিবাহিত নারীর সাথে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।



