রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণাকে উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে রাজশাহীর রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্যোগে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।
প্রতিযোগিতায় রাজশাহীর নয়টি উপজেলা থেকে নয়টি দল ও মহানগর এলাকা থেকে চারটি দলসহ মোট ১৩টি দল অংশগ্রহণ করে। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ, পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্বের ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরে। আয়োজনটি ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
প্রদর্শনীতে রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘যত্ন’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) উপস্থাপন করে। অ্যাপটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার ধারণা তুলে ধরে তারা।
নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পানি পরিষ্কারের নৌকা প্রজেক্ট উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয় ও নদীর পানিতে থাকা ভাসমান ময়লা অপসারণের ধারণা উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী আল ইসলাহ ইসলামী অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রজেক্ট প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা থেকেই তারা প্রকল্পটি তৈরি করেছে। তারা নিজেদের প্রকল্পের কার্যকারিতা, ব্যবহারিক দিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দর্শনার্থী ও বিচারকদের সামনে ব্যাখ্যা করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তা শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজতে সাহসী করে তোলে। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়; সেই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা যে ধরনের প্রকল্প উপস্থাপন করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সব সময় পাশে থাকবে।’
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, দলগত কাজের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি হবে। একইসাথে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা উৎসাহ পাবে।
অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামের সদস্য সচিব ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো: জায়েদুর রহমান। এ সময় রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা পারভীনসহ অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



