বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর হাতে

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে সরকার।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
মো: রাজীব আহসান এমপি এবং আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি (বাঁ দিক থেকে)
মো: রাজীব আহসান এমপি এবং আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি (বাঁ দিক থেকে) |নয়া দিগন্ত

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন দুই প্রতিমন্ত্রী—নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো: রাজীব আহসান এমপি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো: রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপিকে বরিশাল, ঝালকাঠি ও ভোলা জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিমন্ত্রী নিজ নিজ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

রাজীব আহসানের রাজনৈতিক পথচলা

মো: রাজীব আহসান বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তিনি আসামি হন এবং একাধিক মামলায় কারাবরণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান রাজীব আহসান। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। পরে তাকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

সর্বশেষ বরিশাল বিভাগের তিন জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় রাজীব আহসানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

সোহেল মনজুরের রাজনৈতিক ঐতিহ্য

অন্যদিকে পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি বর্তমানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণ ও মেধাবী এই সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় নিজের স্থান করে নেন।

আহম্মদ সোহেল মনজুরের রাজনৈতিক পটভূমিও সমৃদ্ধ। তার বাবা নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পিরোজপুর জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের বেসামরিক প্রধান। তিনি ১৯৯৬ সালে পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আহম্মদ সোহেল মনজুর। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি।

বরিশাল, ঝালকাঠি ও ভোলার দায়িত্ব পাওয়ায় সোহেল মনজুরকেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, তার তদারকিতে তিন জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরো বাড়বে।

ছয় জেলায় নতুন প্রত্যাশা

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে বণ্টনের ফলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, রাজীব আহসান ও আহম্মদ সোহেল মনজুরের সরাসরি তদারকিতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

একই সাথে জনদুর্ভোগ কমানো, সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নেয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে দুই প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা।