আপাতত বন্যার শঙ্কা না থাকলেও সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারো বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি। আগামী তিন দিন সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং এই তিন বিভাগ সংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে সুরমা-কুশিয়ারাসহ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি আবারো বাড়তে পারে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দেশের কোথাও এখন বন্যা পরিস্থিতি নেই। তবে আগামী কয়েক দিনে উজানে বৃষ্টিপাত বাড়লে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে, কমেছে ৫৬টিতে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি স্টেশনে। কোনো স্টেশনেই পানি বিপৎসীমার উপরে ওঠেনি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও আগামী এক দিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পানি বাড়তে পারে।
সিলেট অঞ্চলে বিশেষ নজর রয়েছে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে। বিপৎসীমার নিচে থাকলেও এ পয়েন্টের পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টেও কুশিয়ারার পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। ফলে উজানের বৃষ্টিপাতের ওপরই আগামী কয়েক দিনের নদ-নদীর পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জকিগঞ্জে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০ মিলিমিটার। দেশের সর্বোচ্চ ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে রংপুরের বদরগঞ্জে।
আবহাওয়া অধিদফতরও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। শনিবার সিলেটসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরও বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানিও আগামী পাঁচ দিনে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা ও ধরলার পানিও আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। ফলে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।



