কর্ণফুলীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সাইফুল বলেন, সারা বছর যদি কারখানায় বেতন নিয়ে ঝামেলা করে শ্রমিকরা কীভাবে চলবে? বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে না। কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করায় শ্রমিকদের সাথে আরো জঘন্য আচরণ করছে কর্মকর্তারা।

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Chattogram
বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার গেটে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা
বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার গেটে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা |নয়া দিগন্ত

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি সোয়েটার কারখানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেছে কারখানাটির শ্রমিকরা।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও কর্ণফুলি থানা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে।

আন্দোলনকারীরা জানায়, কারখানাটি বছরে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকে। নিয়মিত বেতন দেয়া হয় না। এক মাসের বেতন দিতে দিতে আরেক মাস চলে যাওয়ার সময় হয়।

তারা বলেন, বুধবার আগস্ট মাসের ১২ তারিখ। এখনো জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। কখন পরিশোধ করবে তাও নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, দুই মাসের বেতন বাকি। চলতি মাসসহ তিন মাস হবে। আমরা কীভাবে চলি? বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। দোকানে বকেয়া পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। রাত-দিন পরিশ্রম করে মাস শেষে যদি ঠিকমতো বেতন না পাই, তাহলে কেন আমরা মাসের পর মাস এভাবে কাজ করে যাব?

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো: মহিউদ্দিন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক। তার শেয়ারবাজারসহ আরো অন্যান্য ব্যবসাও আছে। বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন সোয়েটার কারখানায় দুই থেকে আড়াইশ শ্রমিক কাজ করে।

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায়, বার বার শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা আন্দোলন করলে, পুলিশ গিয়ে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই কথা রাখে না।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানের টাকার অভাব নেই। এখন যদি কারখানার পাশে কেউ একটি জমি বিক্রি করে তাহলে যত দাম হোক সেটা তিনি কিনে নেবেন। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন মাসের পর মাস বকেয়া রেখে দেন।

কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: সাইফুল বলেন, সারা বছর যদি কারখানায় বেতন নিয়ে ঝামেলা করে শ্রমিকরা কীভাবে চলবে? বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে না। কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করায় শ্রমিকদের সাথে আরো জঘন্য আচরণ করছে কর্মকর্তারা।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: হেলাল বলেন, আমাদের সাফ কথা আগে আমাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া বেতনের টাকা ঢুকবে, তারপর আমরা কাজে যোগ দেব।

কারখানার ব্যবস্থাপক শহীদুল আজম বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা কারো কথা মানছেন না। নানা কারণে কারখানা চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাত আট বছর হলেও আমরা এখনো গ্যাস সংযোগ পাইনি। আরো নানা পারিপার্শ্বিক কারণে বেতন পরিশোধে একটু দেরি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক গোলাম নবী জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ আরো কয়েকদিন সময় চাইলে শ্রমিকরা রাজি হয়নি।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা বলেছে বকেয়া বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকার পরেই তারা কাজে যোগ দেবে। তবে কারখানায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে শ্রমিকরা যে যার বাড়িতে চলে যায়।