সিলেটে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে যুব র্যালি ও ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর যুব বিভাগ। সিলেট মহানগর জামায়াতের যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালি ও সম্মেলনে যুব বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও ইউনিট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) নগরিতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট মহানগর যুব বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি পারভেজ আহমদের পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সিলেট অঞ্চল যুব বিভাগের সমন্বয়ক ও ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ কামাল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন এমপি বলেন, দেশের যুব সমাজকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে হবে। যুবকদের মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। একইসাথে বেকারত্ব দূর করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশ, জাতি ও সমাজ উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, যুবকদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে। একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যুব সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জামায়াত যে মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, সেই সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবকেরা অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিনিধি সম্মেলন ও র্যালীতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল এবং মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী যুব সমাজ। তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হবে। বিপরীতে মাদক, জুয়া, বেকারত্ব ও নানা সামাজিক অবক্ষয় যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
সম্মেলনে মহানগর যুব বিভাগের বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীল শফিকুল আলম মফিক, শরীফ মাহমুদ, শাহীন আহমদ, রেজাউল ইসলাম, মাওলানা জুনায়েদ হাবীব, কাজী আবু জাফর, মাজহারুল ইসলাম, আব্দুল হাকীম, হোসাইন আহমদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা যুব সমাজকে সংগঠিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি যুবকদের হাতে কর্ম ও দক্ষতার সুযোগ তুলে দিতে হবে। তাহলেই দেশের সম্ভাবনাময় এ জনগোষ্ঠী জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।



