ঈশ্বরদীতে জুলাই যোদ্ধার উপর সন্ত্রাসী হামলা, হাসপাতালে ভর্তি

ঈশ্বরদীতে এক গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাকে মারধর করে গুরুতর আহত এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জনের বিরুদ্ধে সোমবার (৮ জুন) ঈশ্বরদী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

Location :

Ishwardi
ঈশ্বরদী থানা
ঈশ্বরদী থানা |নয়া দিগন্ত

ঈশ্বরদীতে এক গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাকে মারধর করে গুরুতর আহত এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জনের বিরুদ্ধে সোমবার (৮ জুন) ঈশ্বরদী থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বাদী ও আহত জুলাই যোদ্ধা মো: রফিকুল ইসলাম (২৪) উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ী (হুদিপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের সাথে রফিকুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে চরগড়গড়ী হুদিপাড়া মোড়ে তার বাবার মুদিখানা ও ভ্যারাইটিজ দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি এর প্রতিবাদ করলে প্রধান অভিযুক্ত সোহান অন্যদের হামলার নির্দেশ দেয়। এরপর সোহান, তামিম ও নাইমসহ কয়েকজন মিলে লোহার রড, জিআই পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তার ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে সোহান হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে আঘাত তার নাকে লাগে এবং নাকের হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া তামিম লোহার রড দিয়ে তার মাথা, কাঁধ ও বাহুতে এবং নাইম জিআই পাইপ দিয়ে পিঠ, পাঁজর, কোমর ও দুই পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

এজাহারে আরো বলা হয়, মারধরের সময় তামিম তার শার্টের বুক পকেটে থাকা নগদ ২১ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। রফিকুল ইসলামের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত রফিকুল ইসলামকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’