রূপগঞ্জে এনসিপির সভায় দফায় হামলা : মঞ্চ ভাংচুর, আহত ২০

কিভাবে সন্ত্রাসীদেরকে শায়েস্তা করতে হয় আমরা জানি : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘আমাদের আর কোনো নেতা-কর্মীদের উপর যদি আপনারা হামলা করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের সাথে রাজনৈতিকভাবে মিলেমিশে থাকার চুক্তি থেকে বের হয়ে যাবো।’

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Rupganj
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অনুষ্ঠান প্যান্ডেল এবং (ডানে) বক্তব্য রাখছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অনুষ্ঠান প্যান্ডেল এবং (ডানে) বক্তব্য রাখছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফল উৎসব অনুষ্ঠানস্থলে দফায় দফায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান এনসিপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় ভেঙে ফেলা হয় সমাবেশস্থলের মঞ্চ ও চেয়ার।

পরে সেখানে উপস্থিত হয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা হাসিনার মতো গুন্ডাপান্ডাকে ঠান্ডা করে আসছি, নতুন কোনো গুন্ডাপান্ডাকে ভয় পাই না। আমরা জানি কিভাবে সন্ত্রাসীদেরকে শায়েস্তা করতে হয়।’

শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন রূপগঞ্জ এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারাবি হাসান, জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরফাতসহ অন্যনা নেতাকর্মীরা।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এ হামলা চালায়। আগের রাতেও অনুষ্ঠানস্থলে একই লোকজন হামলা করে প্যান্ডেলের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘আমাদের ফল উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার আগমন বানচাল করতে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার রাতেও আমাদের মঞ্চের বাঁশ ভেঙে দেয়। শনিবার প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে তিন শতাধিক লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও চেয়ার ভেঙে দেয়। আমাদের পাঁচ নেতা-কর্মীকে রক্তাক্ত করেছে তারা। এসময় শতাধিক মোটরসাইকেল দিয়ে মহড়া দেয় তারা।

এদিকে, বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে হাজির হন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এসময় তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিএনপির উদ্দেশে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আমাদের আর কোনো নেতা-কর্মীদের উপর যদি আপনারা হামলা করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের সাথে রাজনৈতিকভাবে মিলেমিশে থাকার চুক্তি থেকে বের হয়ে যাবো। আমরা পদ্ধতি জানি কিভাবে সন্ত্রাসীদেরকে শায়েস্তা করতে হয়।’

ভাঙা মঞ্চে রাখা বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রক্তের উপর দিয়ে হলেও বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন করে ছাড়বো। রক্তের উপর দিয়ে হলেও আওয়ামী লীগের বিচার করে ছাড়বো।’

রূপগঞ্জে অনুষ্ঠানে দুইবার হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকে জানের রিস্ক আছে বলেছেন, এখানে যেতে নিষেধ করেছেন। আমার সহযোদ্ধারা আহত হবে আর আমি ঘরে চুড়ি পরে বসে থাকবো, এটা হবে না। আমরা হাসিনার মতো গুন্ডাপান্ডাকে ঠান্ডা করে আসছি, নতুন কোনো গুন্ডাপান্ডাকে ভয় পাই না। আপনি শয়তানি কাজ করলে, আমরা শয়তানের বিরুদ্ধে আছি। আমরা শয়তানকে বাংলাদেশে রাখতে চাই না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনে মুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “নির্বাচনের আগে কথা ছিল- আওয়ামী লীগের বিচার হবে। ইলেকশনের পর বিএনপি সরকার পল্টি মেরেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা নিয়ে ‘অযাচিত’ সংজ্ঞা দিয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জ খুবই সুন্দর এলাকা। কিন্তু রূপগঞ্জকে বানানো হয়েছে মাদকের অভয়ারণ্য ও সন্ত্রাসের জগত। রূপগঞ্জকে জমি, ঘর দখলের জায়গা হিসেবে বানানো হয়েছে। এনসিপি যেদিন ক্ষমতায় আসবে, রূপগঞ্জে যখন কাজ করবো তখন কেউ এক ইঞ্চিও দখল করতে পারবে না। রূপগঞ্জে কোনো মাদক ও সন্ত্রাস থাকতে পারবে না। আমাকে বলা হয়েছে আপনাকে মারতে পারে। আমি বলছি- আমি ওইখানে যাবোই যাবো। আমরা কোনো হামলাকে ভয় পাই না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর প্রতিদিনই হামলা হয়। আল্লাহ আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে তোমাদের চুনোপুটি আমাদের কিছু করতে পারবে না।’

রূপগঞ্জে হামলার পুনরাবৃত্তি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকড়াও করে জিজ্ঞেস করবো- ‘হু আর ইউ? তুমি কিভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছো?’ তোমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীত্বের সময়ে আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরে। তুমি বলো সংবিধানের কথা, কোন সংবিধান তোমাকে হামলার অধিকার দিয়েছে? বাংলাদেশের সংবিধান কথা বলার অধিকার দিয়েছে। সংবিধানের কথা বলে তুমি আমার অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে তুমি সংবিধানের নামে ভুয়া, বাটপারি করছো।’

জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমন্ত্রিত অতিথি সফলভাবে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন। হামলার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’