টাঙ্গাইলে পৃথক দু’টি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান ও স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা আলাদাভাবে এ রায় দেন। আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে রায় পড়ে শোনান বিচারকরা। পরে আসামিদের টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ (৩৪) ও দেলদুয়ার উপজেলার বর্নী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪৭)।
দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০২০ সালের ১৮ জুন দুপুরে ভূঞাপুরের গাড়াবাড়ী গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী সাহিদা আক্তারের সাথে আম পাড়ার কোটা নিয়ে আসামি জিহাদের বিরোধ হয়।
খবর পেয়ে সাহিদা আক্তারের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী মোস্তফা রাজীব প্রতিবাদ করলে আসামি জিহাদ চাকু দিয়ে তার পাজরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। ওইদিন বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রাজীবের বাবা গোলাম মোস্তফা ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন। বিচার শেষে আসামি জিহাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।
মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
অপরদিকে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মা ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে আসামি সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহজাহান কবীর নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০১১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাজেরা বেওয়া (৬০) ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তার (২২) রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে শুয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে হাজেরা বেওয়ার ছেলে মো: মোস্তফা ফজরের নামাজ পড়তে উঠে দেখেন, মা হাজেরা ও বোন নাসরিন ঘরে নেই।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির আনুমানিক ২০০ গজ দুরে ফসলী জমিতে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত হাজেরা বেওয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন দেলদুয়ার থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে হত্যার আসামি সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মামলার অপর আসামি সানোয়ার ও রনিকে খালাশ দেন বিচারক।



