ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্যাতনে সপরিবারে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর মামলা দায়ের করেছেন ছাত্রদল নেতা আবদুর রহমান মেহেদী (মেহেদী হাসান)।
রোববার (১৪ জুন) আটজনের নাম উল্লেখ করে আরো চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে দাগনভূঞা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এজাহারে মেহেদী উল্লেখ করেন, ‘পশ্চিম চন্ডিপুর এলাকার সিরাজ উল্যাহর সাথে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর পৈত্রিক বসতভিটায় ঘর করতে চাইলে তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন বাগ্বিতণ্ডার সময় পরিবারের নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানী করে। সেদিন পকেটে থাকা নগদ ১২ হাজার ৪০০ টাকা ও গলায় থাকা ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে কখনো বাড়িতে যেতে চাইলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।’
মেহেদীর অভিযোগ, ‘প্রতিপক্ষের মারধর এবং হুমকির কারণে পৈত্রিক বাড়িতে থাকা সম্ভব হয়নি। বাড়িতে থাকার জন্য একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোনোপ্রকার সহযোগিতা করেনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয়ে তাদের উচ্ছেদ করেছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা বিএনপির সাথে মিলেমিশে তাকে বসতভিটায় ফিরতে বাধা দেয়।’
এ ঘটনায় সিরাজ উল্যাহ ছাড়াও তার স্ত্রী নারগিস আক্তার, ডা: শরিয়ত উল্যাহর ছেলে হুমায়ুন কবির, আবুল কাশেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম, জামাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, মো: ইদ্রিছ ভূঞা সুরুজের ছেলে ইব্রাহিম ভূঞা শরীফ, ওবায়দুল হকের ছেলে বাবুল মিয়া, আলাউদ্দিনের ছেলে আনোয়ারা হোসেন রোজেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩ জুন স্থানীয় একটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন হলে তোলপাড় শুরু হয়। সংবাদটি নজরে এলে গত ৭ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাকে ডেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মেহেদীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে খোঁজখবর নেন। পরিবেশমন্ত্রী দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জকে ছাত্রদল নেতা মেহেদীর পরিবারকে আইনানুগ সহযোগিতার নির্দেশ দেন। এছাড়া রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে চাকরি করতে চাইলে এব্যাপারে সহযোগিগীতার আশ্বাস দেন পরিবেশমন্ত্রী।
পরিবেশমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব নাজমুল হুদা রাজু জানান, মেহেদীর বিষয়টি অবগত হওয়ার পর মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। এছাড়া খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।



