চট্টগ্রামে অতিভারী বৃষ্টি থাকতে পারে আরো ৪-৫ দিন, পাহড়ধসের শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
অনেক জায়গায় পাহাড় কেটে কেটে ঘর বানানো হয়েছে
অনেক জায়গায় পাহাড় কেটে কেটে ঘর বানানো হয়েছে |সংগৃহীত

মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম জুড়ে গত দুই দিন ধরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২০৬.২ মিলিমিটার এবং টাইগারপাসের অদূরে আমবাগানস্থ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র একই সময়ে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। তবে আমবাগান কেন্দ্রে আজ বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

আবহাওয়া অফিস আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সাথে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। চট্টগ্রামে পাহাড়ধসেরও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নাগরিক দুর্ভোগ- বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

নগরীর কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, তবে সকালের দিকে পানি নেমে যায়। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের স্বল্পতায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের গলদঘর্ম অবস্থা ছাড়াও বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং

এদিকে, পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং রোববার রাত থেকেই মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার(ভূমি) শিফাত বিনতে আরার নেতৃত্বে মতিঝর্না পাহাড়ে লোকজনকে সচেতন করার জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় সরাসরি গিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। রাস্তায় মাইকিং চালু আছে, এর সাথে সাথে স্থানীয় মসজিদে এ সংক্রান্ত ঘোষণা প্রচার করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রতি ওয়াক্তে আজানের কিছু পর পরই সচেতনতামূলক ঘোষণাটি প্রচারিত হবে বলেও সূত্র জানায়।

এছাড়া হাটহাজারীর জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি,সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলীর ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল ও বিজয় নগরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে সচেতনতামূলক মাইকিং চলমান রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।

চট্টগ্রামস্থ আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আরো ৪/৫ দিন বৃষ্টি থাকতে পারে, মাঝে বিরতিও থাকতে পারে।

তিনি জানান, ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সোমবার চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ছাড়িয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণ ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ সোমবার বেলা ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (>৮৮ মি.মি./২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।