মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে। সাধারণ মানুষ পেটে ভাত, পকেটে টাকা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য চায়। কৃষক শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃক আয়োজিত মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মুন্সীগঞ্জের মাটি ও পানি অত্যন্ত উন্নত মানের। এ জেলার মানুষও পরিশ্রমী। আলু, সবজি ও মাছ উৎপাদনে মুন্সীগঞ্জ দেশের শীর্ষস্থানীয় অঞ্চলগুলোর একটি। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ধান ও সবজি চাষিদের পাশাপাশি মাছ চাষি, খামারি এবং পান চাষিদেরও কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিগত নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সারের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সরকার কৃষি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ড চালু হলে আপনি কত কানি জমিতে আলু রোপণ করেছেন তা সরকারের রেকর্ডে থাকবে। আপনার কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন সেটিও সরকারের রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে। সেই অনুযায়ী আলু তোলার আগেই সরকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলতে পারবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে এই কার্ডের মাধ্যমেই কৃষকের সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান ও প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম ভিপি মাসুম, ইসহাক আলী, মাসুদ ফারুক, অধ্যাপক এ কে এম গিয়াস উদ্দিন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাজির আহমেদ সিকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে ২৫টি বকনা বাছুর ও প্রতিজনকে ৫০ কেজি করে গোখাদ্য প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন মন্ত্রী। এরপর মাথাভাঙ্গা খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।



