বান্দরবান প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বান্দরবান শহরের আর্মি পাড়া, ওয়াবদা ব্রিজ, কাশেমপাড়া, বনানী স মিলসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে শতাধিক পরিবার শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোলা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে শহরের কালাঘাটা ও হাফেজঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ছয়টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের লাল ব্রিজ এলাকায় পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি ও পাথর পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরোদুই দিন বাড়িয়ে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্যসহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও সড়কে পানি ওঠায় বান্দরবানের সাথে বগালেক-কেওক্রাডং, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।



