চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ও দামুড়হুদা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় চাঁদার দাবিতে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অফিস থেকে নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা রেলইয়ার্ডসংলগ্ন রিফাত আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আমদানি-রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি এর আগে কয়েক দফায় টাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়া হয়। পরে তিনি বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
রফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, শুক্রবার জুমার নামাজের কিছু আগে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং সেখানে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে এলে তিনি দ্রুত রিফাত আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
লুটপাট ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতর করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



