নোয়াখালীতে স্কুলছাত্র ফাহিম হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে ফাহিম। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় তাকে একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ সাত-আটজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

Location :

Noakhali
স্কুলছাত্র ফাহিম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
স্কুলছাত্র ফাহিম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত স্কুলশিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, সেনবাগ উপজেলার দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে এলাকাবাসী আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান।

এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করে। এতে কয়েক দিন ধরে সেখানে মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।

আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে ফাহিম। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় তাকে একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ সাত-আটজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো: শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় সেনবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে।