বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপিসহ প্রায় ৩০টির মতো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলাম। সেখানে উল্লেখ ছিল, নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা এখন জুলাই সনদকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা করছে। এক কথায় সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদেরকে সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছি।’
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ মহিলা মাদরাসা মাঠে উপজেলা জামায়াতের ৬৯৫টি ইউনিট সভাপতিদের সম্মেলন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আগামি সেপ্টেম্বরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। আমরা আশা করব, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে অধিবেশন ডেকে এ সনদকে বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায়, আমরা এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সনদ বাস্তবায়নে কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেব।’
তিনি বলেন, ‘সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে তারা জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিল, ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি সেক্টরকে নিরপেক্ষ রাখবে। অথচ তারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সব কয়টি সিটি করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দলীয় লোক বসিয়ে তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করছে। এটা অসাংবিধানিক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে যদি দেশে কোনো দলীয় সরকার না থাকতো, তাহলে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা ছিল। কিন্তু এখন দলীয় নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তারা এটা করতে পারে না। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন (বাছাই) করার সুযোগ দিলে জনগণের ভোগান্তি কমবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এদেশে সব বিষয়ক একজন মন্ত্রী রয়েছে। তিনি সকল মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে ছোট করে তিনি বক্তব্য রাখেন। অথচ, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে তার খেয়াল নাই।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিগত ছয় মাসে আমরা দেশে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। সব দিকে শুধু সরকারদলীয় লোকদের মারামারি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের দৃশ্যই দেখতে পাচ্ছি।’
বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশে উন্নয়নের বৈষম্য চলছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের আসনে সুষম বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার এলাকায় সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবে, উদ্বোধন করবে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার বিরোধীদলের সংসদ সদস্যের এলাকায় তাদের দলীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অনেকটা দারোয়ানের মতো উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব প্রদান করেছে। অতীতে এটি কখনো হয়নি। এতে করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আরো খাটো করা হচ্ছে।’
সরকারের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘বিরোধী দলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছে। তাহলে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের তদারকির দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না কেন?’
এর আগে, উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান ও কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার সিদ্দিকী।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ভিপি সাহাব উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রহিম, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, মজলিসে শূরা সদস্য ডা: মঞ্জুর আহমেদ সাকি, আবদুল কাদের, ইউসুফ মেম্বার, পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী মো: ইয়াছিন, সেক্রেটারি মোশারফ হোসেন ওপেল, উপজেলা সদর শিবির সভাপতি নাসিম মিয়াজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



