রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারত থেকে পুশইন করা ব্যক্তিদের ঘিরে সৃষ্ট মানবিক সঙ্কটের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত শেষ দুই ব্যক্তিকেও বুধবার (২৪ জুন) ভোরের পর আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে শাহপাড়া সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে এখনও তিনজন অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে মোট নয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া ১০৬০/১এস সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং রৌমারী সদর ইউনিয়নের চরনতুন বন্দরসংলগ্ন ভুন্দুরচর-শাহপাড়া ১০৬৬ সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পরপরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সাথে সমন্বয় করে নজরদারি জোরদার করেন। ফলে পুশইন করা ব্যক্তিরা নোম্যান্সল্যান্ডেই আটকা পড়ে যান।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত ছয়জনের মধ্যে চারজন কয়েকদিনের মধ্যে বিজিবি ও বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে অজ্ঞাত পথে সেখান থেকে সরে যান। অবশিষ্ট দুইজন মঙ্গলবার পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করলেও বুধবার ভোর থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন বা কীভাবে স্থান ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভুন্দুরচর-শাহপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত তিনজন এখনও নোম্যান্সল্যান্ডে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটানো এসব মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। সীমান্তের দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে এভাবে আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে মানবিক সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। তাদের বিষয়ে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।



