দীর্ঘ এক দশক পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলেও বাড়ি পৌঁছাতে পারলেন না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের আরিফ ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিতে গিয়েছিলেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
তবে সেই আনন্দঘন প্রত্যাবর্তন মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রাইভেটকারের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরিফসহ পরিবারের চার সদস্য ও গাড়িচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
নিহত আরিফ ইসলাম জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া যান। সোমবার রাতে দেশে ফেরার পর তাকে নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন তার মা নুরজাহান বেগম, ভাই রাকিব হোসেন, বোন আয়েশা বেগম এবং ভাগ্নে-ভাগ্নি আশরাফুল ও তাছফিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরগামী প্রাইভেটকারটি মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাকিব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহতরা হলেন—বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০), তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৪), একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম (২৮), রাকিব হোসেন (১৮) এবং প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন (২৫)। জাহিদ মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রাজগঞ্জ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের চালক ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক।
আহত শিশু আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শিবচর হাইওয়ে থানার সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে পুলিশ ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারটি ট্রাকের পেছনে আটকে থাকায় কাটার যন্ত্র ব্যবহার করে চালকের লাশ উদ্ধার করতে হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গি গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী নিহতদের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।



