চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাত জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান নামে দুই অনুপ্রবেশকারী। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর বাকি পাঁচজন কোথায় গেছেন তা তারা জানাতের পারেননি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জীবননগর সীমান্তের কোনো এক পয়েন্ট দিয়ে বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়।
পুশইনের শিকার হওয়া আমিনুর রহমান ও খলিলুর রহমান নিজেদেরকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দেয়ারলাক গ্রামের বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তবে তাদের সাথে থাকা বাকি অন্য পাঁচজনের পরিচয় সম্পর্কে তারা কিছু জানাতে পারেননি।
স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে দেয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে পুশইন হওয়া আমিনুর রহমান জানান, কর্মসংস্থানের সন্ধানে প্রায় আড়াই বছর আগে তারা অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফ তাদের চোখ বেঁধে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিএসএফের পরামর্শেই তারা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে আলাদা হয়ে যান। সীমান্ত অতিক্রমের সময় তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কোনো টহল দলের মুখোমুখি হননি।
স্থানীয়রা জানায়, ভোরে জীবননগর এলাকায় দুইজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তারা জানান, বিএসএফ পাটোয়ারী সীমান্ত দিয়ে চোখ বেঁধে তাদের সাতজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম নয়াদিগন্তকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুশইন সম্পর্কিত একটি ভিডিও তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত সীমান্তের ভারতীয় অংশে পাটোয়ারী নামে কোনো গ্রাম বা সীমান্ত পয়েন্টের অস্তিত্ব নেই।
তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি বা পুশইন হওয়া কাউকে বিজিবি এখনো সরাসরি খুঁজে পায়নি, তারা সম্ভবত খুলনা চলে গেছে। সার্বিক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



