চৌদ্দগ্রামে পৃথক দুর্ঘটনায় ৩ জনের প্রাণহানি

গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা গ্রামে হাঁটার সময় বিষধর সাপের কামড়ে আহত হন যুবক আল জাবির অভি। প্রথমে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে গিয়ে শুয়ে পড়েন। রাতের একপর্যায়ে তার শারীরিক ব্যথা ও অসুস্থতা বেড়ে গেলে বিষয়টি স্বজনদের অবহিত করেন।

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Chauddagram
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শামসুল হক, (ডানে) সাপের দংশনে নিহত আল জাবির অভি
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শামসুল হক, (ডানে) সাপের দংশনে নিহত আল জাবির অভি |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা, সাপের দংশন ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীসহ তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৃথক তিন প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: রশিদ আহমদ চৌধুরী তোফায়েল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোলেমান বাদশা।

নিহতরা হলেন— উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাসন্ডা গ্রামের মাদরাসাশিক্ষক গোলাম সারোয়ারের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার (৩৩), পৌর এলাকার শ্রীপুর বরকান্দাজ বাড়ির মরহুম কালা মিয়ার ছেলে সামছুল হক (৬৫) ও গুণবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা গ্রামের জাহাঙ্গীর কবির প্রকাশ মনু মিয়ার ছেলে আল জাবির অভি (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিলকিছ আক্তার বাড়ির উঠানে কম্বল শুকাতে দেয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন নবগ্রাম রাস্তার মাথায় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির ধাক্কায় শামছুল হক গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা গ্রামে হাঁটার সময় বিষধর সাপের দংশনে আহত হন যুবক আল জাবির অভি। প্রথমে তিনি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে গিয়ে শুয়ে পড়েন। রাতের একপর্যায়ে তার শারীরিক ব্যথা ও অসুস্থতা বেড়ে গেলে বিষয়টি স্বজনদের অবহিত করেন।

রাতেই তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অভিকে মৃত ঘোষণা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: রশিদ আহমদ চৌধুরী তোফায়েল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বিলকিছ আক্তার ও সামছুল হকের মৃত্যু হয়। এছাড়া সাপের দংশনে আহত অভিকে কুমিল্লা মেডিক্যালে পাঠানোর পর মৃত্যুর খবর শুনেছি।