খুলনা সিটি করপোরেশন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ সাত হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। বাজেটের বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এতে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৯০ লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাক ১৭ হাজার টাকা। আয়ের দ্বিতীয় অংশে সরকারি অনুদান ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে বিশেষ প্রকল্পে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিগত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমত্রা ছিলো ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা । সংশোধিত আকারে তা দাঁড়ায় ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকায়। নিজস্ব তহবিলের অর্জনের হার ৭১.৭০ শতাংশ এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্জনের ৩৮.৫২ শতাংশ।
ঘোষণাকালে বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ‘বাজেটে এবারো নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সকল স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে করধার্য্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি একটি উন্নয়নমূখী বাজেট। বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয়-পার্ক-বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-রাস্তাঘাট উন্নয়ন, কেসিসি’র বিভিন্ন দফতর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’
প্রশাসক বলেন, ‘কেসিসির সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নিজস্ব আয় থেকে উন্নয়ন খাতে মোট ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরনারি ও কঞ্জারভেন্সি খাত মিলিয়ে মোট ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণখাতে ১৮ কোটি নয় লাখ টাকা এবং মূলধনখাতে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে এডিপির থোক ও বিশেষ বরাদ্দ থেকে ১৫০ কোটি টাকা ও পূর্ত খাতে ৯২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য দুই কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছে। ভেটেরিনারি খাতে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও কঞ্জারভেন্সি খাতে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাজেটে এসব প্রকল্পে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রামে ১৩ লাখ টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতি মোকাবিলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নগর অঞ্চল প্রকল্প-২ এ ২০ কোটি টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ছয় হাজার টাকা, ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ এডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২ এ ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্পে ৭৯ লাখ ছয় হাজার টাকা, কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পে ১৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ প্রকল্পে সাত কোটি ৫০ লাখ টাকা, লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিস ফর অল প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রিজিওনাল আরবান টিউটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান। খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান ও নগনীর সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



