মুফতি ফয়জুল করীম

ভঙ্গুর ও ঋণগ্রস্ত অর্থনীতির মাঝে সরকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছে

‘একদিকে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সাথেও সম্পর্ক ভালো নেই, অপরদিকে দেশের ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। এই হিসাবে এত উচ্চাভিলাষী বাজেট কাম্য নয়। বাজেট ঘোষণার আগেই দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম
বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম |নয়া দিগন্ত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, ‘দেশ চলছে ঋণের ওপর, অর্থনীতি ভঙ্গুর। এর মধ্যে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারাবছর দেশী-বিদেশী খাত থেকে ঋণ নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর সারদা হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘একদিকে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সাথেও সম্পর্ক ভালো নেই, অপরদিকে দেশের ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। এই হিসাবে এত উচ্চাভিলাষী বাজেট কাম্য নয়। বাজেট ঘোষণার আগেই দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়।’

তিনি বলেন, ‘দেখবেন সরকার অনেক উন্নয়নের কথা বলবে। কিন্তু চারিত্রিক উন্নয়নের কথা কখনো বলবে না। কারণ এরা চারিত্রিক উন্নয়নে কাজ করে না। আর আমাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের চারিত্রিক উন্নয়ন সাধন। আমরা মনে করি, দেশের মানুষ চারিত্রিক উৎকর্ষে বলিয়ান হবে। আত্মশুদ্ধির একটা জাতি তৈরি হবে। তখনই দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত একদল কর্মীবাহিনী তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করছে চরিত্রবান আল্লাহ ভীরু মানুষ তৈরি করার জন্য। যার জন্য দরকার একদল প্রশিক্ষিত দক্ষ চরিত্রবান ত্যাগী নেতৃত্বের। ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের নেতৃত্বকে সেইভাবে সাজাতে হবে। যারা দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ থাকবে।’

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। দেশে যে হারে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সবাইকে কাঁদিয়েছে। সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনা একটা, দুইটা নয়; অহরহ ঘটনা ঘটছে। দেশের মধ্যে হযরত মুহাম্মদ সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া ধর্ষণ, হত্যা, গুম, খুন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাকমেইলিং এর ঘটনা আতঙ্ক তৈরি করছে। সীমান্তে পুশইন উত্তেজনা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঢোল, তবলা, ড্যান্স বাধ্যযন্ত্র শেখানোর জন্য যে চেষ্টা করছেন তা বন্ধ করতে হবে। অন্যাথায় আগের মতো কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি ডা: রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিন ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি আবু তাহের মিসবাহ’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য নজীর আহমদ ও জেলা সভাপতি মুফতী সাঈদ আহমেদ।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সিলেট মহানগর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আসাদ উদ্দিন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম মহানগর সভাপতি প্রভাষক বুরহান উদ্দিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর নেতা মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সভাপতি ফজলুল হক, ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল হক, মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকাওয়াত হোসেন প্রমুখ।