রাঙ্গামাটিতে পানিতে ডুবে গেছে ঝুলন্ত সেতু, রাতে খুলছে বাঁধের গেট

কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। রাতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের গেট খুলে দেয়া হবে।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

Location :

Rangamati
পানির নিচে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু
পানির নিচে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু |নয়া দিগন্ত

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি এড়াতে সেতুটিতে চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটির পর্যটন কমপ্লেক্সের ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে ডুবে যায়।

পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সেতুতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে ও পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিরাপত্তা যাচাই করে পুনরায় সেতুটি খুলে দেয়া হবে।

এদিকে, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫.৬৪ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছায়, যেখানে হ্রদের মোট ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শনিবার রাত ১০টা নাগাদ কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ের গেট ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। যার মাধ্যমে প্রায় নয় হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হবে।

এছাড়া বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ৩২,০০০ কিউসেক পানি ইতোমধ্যে নিষ্কাশিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও হ্রদের ইনফ্লোর ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।