কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে গ্রীন ভ্যালি ফুড প্রোডাক্টস নামে একটি বেকারি কারখানা সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইউনুস মার্কেট শাহ ছমিয়া এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।
উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার খবর পেয়ে কর্মচারী ও বেকারি সংশ্লিষ্টরা কারখানার মূল ফটকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা বেকারির ভেতর প্রবেশ করে দেখতে পান। সেখানে খোলা ও নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ও বিভিন্ন নাস্তা জাতীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। উৎপাদনস্থলের বিভিন্ন স্থানে মাছির উপস্থিতি, পচা আটা ও অপরিষ্কার কাঁচামাল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া নোংরা যন্ত্রপাতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির চিত্রও পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্য জব্দ করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও কাগজপত্র নিয়ে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিএসটিআই সনদ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া ফ্যাক্টরি লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির অভিযোগও পাওয়া যায়। এবিষয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান সূত্রে আরো জানা য়ায়, বেকারিটি বিভিন্ন সময়ে রহমান বেকারি, ফ্রিজিয়া ফুড প্রোডাক্টস ও গ্রিন ভ্যালিসহ বিভিন্ন নামে খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে আসছে। একই সাথে পণ্যের মোড়কে একাধিক ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি অভিযানে ধরা পড়ে।
স্থানীয় ঠিকানা হিসেবে বেকারিটির অবস্থান ইউনুস মার্কেট এলাকার পেছনে শাহ ছমিয়া, চরপাথরঘাটা, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম উল্লেখ থাকলেও কিছু পণ্যের মোড়কে চর চাকতাই, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম ঠিকানা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে অভিযান পরিচালনার সময় বেকারির মালিক ঘটনাস্থলে না থাকায় কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রিদুয়ানুল ইসলাম মোবাইল ফোনে তার সাথ কথা বলেন। এ সময় বেকারি মালিক একজন স্টাফকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর কথা জানালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো স্টাফ সেখানে উপস্থিত হননি।
পরে বেকারির ভেতরের পরিবেশ, খাদ্য উৎপাদনের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



