মাত্র ২ কিলোমিটার পথে ১৫ টাকা ভাড়া

বারৈজ্জারহাট-কাশিপুর সড়কে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈজ্জারহাট থেকে কাশিপুর বাজার পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক। অথচ এই অল্প দূরত্বে যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করছেন অটোরিকশাচালকরা।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বারৈজ্জারহাট-কাশিপুর সড়কে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
বারৈজ্জারহাট-কাশিপুর সড়কে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈজ্জারহাট থেকে কাশিপুর বাজার পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক। অথচ এই অল্প দূরত্বে যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করছেন অটোরিকশাচালকরা। কোনো ধরনের সরকারি ভাড়ার তালিকা বা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় চালকদের ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলেই যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, হুমকি-ধামকি এমনকি লাঞ্ছিত করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারৈজ্জারহাট থেকে কাশিপুর বাজার পর্যন্ত সড়কটি নগরীর অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগপথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশায় চলাচল করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ হলুদ অটোরিকশার বৈধ কাগজপত্র ও রুট পারমিট নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবুও কোনো ধরনের নজরদারি না থাকায় চালকরা প্রকাশ্যেই যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। অনেক সময় একজন যাত্রী থাকলেও পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হয়। ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: সান্টু খান বলেন, ‘মাত্র দুই কিলোমিটার রাস্তার জন্য ১৫ টাকা ভাড়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আগে অনেক কম ভাড়া ছিল। এখন চালকরা নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করছেন। প্রতিবাদ করলেই খারাপ ব্যবহার করেন।’

শিক্ষার্থী আজগর, মুহিম, আব্দুল্লাহ ও সাকিব বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যাওয়া-আসা করতে ৩০ টাকা শুধু এই ছোট্ট রাস্তায় ভাড়া দিতে হচ্ছে। মাস শেষে এটি বড় অঙ্কের টাকা হয়ে যায়। আমরা শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিক হাসিনা, সুখী ও মুবিন বলেন, ‘দিনে যে মজুরি পাই, তার একটি অংশ শুধু যাতায়াতে চলে যায়। সকালে কাজে যেতে ও বিকেলে ফিরতে ৩০ টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি অনেক কষ্টের।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান, অনেক সময় চালকরা নির্ধারিত স্টপেজের আগেই যাত্রী নামিয়ে দেন। আবার ভাড়া নিয়ে আপত্তি করলে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এ কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে ভয় পান।

এ বিষয়ে অটোরিকশাচালকরা জানিয়েছেন, ‘গাড়ির যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি, চার্জিং ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে। তাই ১৫ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করা উচিত নয়। সরকার যদি ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে আমরা সেটি মেনে চলব।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল বলেন, ‘নগরীর বারৈজ্জারহাট-কাশিপুর সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নগর ভবনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এসেছে। অবৈধ অটোরিকশা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, চালকদের নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে ওই এলাকায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।