বরিশালের বানারীপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি ভেকু জব্দ করে পল্টনসহ নিলামে বিক্রির আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই আদেশের আইনগত ভিত্তি জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রেজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ২০ আগস্ট এ আদেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রিট পিটিশন নম্বর ১১১৮৯/২০২৬-এর আবেদনকারী পটুয়াখালীর চরপাড়া গ্রামের মো: হানিফ হাওলাদার।
রিটে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, বানারীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আমিনুল ইসলাম ওরফে সাগর ফকির এবং মো: আনিসুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বানারীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ২৪ জুলাই মিসকেস নম্বর ০৪৪৭২.০১.১০০০০০১৮৫১৭.০০৪১.২৬-এ দেওয়া আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ওই আদেশে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারায় প্রো-ফরমা বিবাদী মো. আনিসুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারার বিধান অনুযায়ী জব্দ তালিকায় থাকা একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) ও একটি পল্টন জব্দ করে এবং তা স্পট নিলামে বিক্রির আদেশ দেয়া হয়।
রিটকারী হানিফ হাওলাদারের দাবি, তিনি ভেকুটির মালিক এবং ভেকু ও বার্জ নিয়ে দেওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে আইনগত অসঙ্গতি রয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ভেকু ব্যবহারের প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে দায়ী করে জরিমানা ও সম্পদ নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মো: আনিচুর রহমান দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি দেখে সেখানে যান। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, ভেকুটি বার্জের ওপর রাখা ছিল এবং সেটি দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি।
আনিচুর রহমানের অভিযোগ, তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে প্রথমে এক লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়। পরে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। তার দাবি, এর পরপরই প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের পল্টন এবং ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভেকু মাত্র ১৫ লাখ টাকা মূল্যে নিলামে তোলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাগর ফকির ২০ লাখ টাকা দিয়ে পল্টন ও ভেকু নিলামে কিনেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: জগলুল মৃধা বলেন, ‘আমার বালুর জাহাজ খালি করার জন্য পল্টনে বহন করে এই ভেকুটি নিয়ে আসে। ভেকুটি খালের পাড়েই নোঙর করে রাখা ছিল। কোনো বালু বা মাটি কাটেনি। শুধু শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে জরিমানাসহ পল্টন ও ভেকুটি নিলামে ডাকেন।’
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ২৪ জুলাইয়ের ওই আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না। একই সাথে নিলামে বিক্রির বিষয়ে দেওয়া আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রুলটি চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য ফেরতযোগ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্টার্ড ডাকসহ প্রচলিত প্রক্রিয়ায় বিবাদীদের নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: বায়েজিদুর রহমান বলেন, ‘২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
এদিকে রিটকারী মো: হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘ভেকুর প্রকৃত নাম (৩২০ ডিএল) ও এমভি বার্জ ইনসাফ (রেজি নং এম ১৪১২৩) এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, পল্টনে থাকা মালামালের সূচিপত্র উল্লেখ না করেই নোঙর করা অবস্থায় ভেকুর মালিক সন্দেহ করে মো: আনিচুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ লাখ টাকার ভেকু মাত্র ১০ লাখ টাকা এবং দেড় কোটি টাকার পল্টনটি নামমাত্র ৫ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গীয় উপস্থিত সাগর ফকির সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাত্র ২০ লাখ টাকায় ভেকু ও পল্টনটি কিনে নেয়। আমরা বিষয়টি স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাইনি। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশের বৈধতার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’



