ফটিকছড়ি উত্তরে এবার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আগামী রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল পালন করবেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ওষুধ সরবরাহ ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হবে।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Chattogram
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সমন্বয় পরিষদের নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সমন্বয় পরিষদের নেতারা |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে আবারো হরতালের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারী তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। রোববার থেকে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ইউনিয়নে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, একই সংগঠনের ডাকে গত ১৬ জুলাই এ তিন ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে স্থানীয়রা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক একরামুল হক।

একরামুল হক অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নবগঠিত উপজেলার সদর দফতর ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধাজনক স্থানে হওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) প্রকাশিত গেজেটে গণশুনানির রিপোর্ট উপেক্ষা করে সদর দফতর করা হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলার কাছে পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়।

তিনি বলেন, ভূজপুর থানা সংলগ্ন স্থানে সদর দফতর করা হলে উপজেলার উত্তর অংশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে না। আমাদের স্পষ্ট দাবি, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী যেকোনো যৌক্তিক স্থানে নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের এ কষ্ট লাঘব হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আগামী রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতাল পালন করবেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ওষুধ সরবরাহ ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই অনুষ্ঠিত নিকার সভায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নবগঠিত উপজেলার সদর দফতর নির্ধারণ করা হয় ভূজপুর থানা সংলগ্ন এলাকাকে।

এ সিদ্ধান্তে উত্তর ফটিকছড়ির ওই তিনি ইউনিয়নের আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের দাবি, প্রস্তাবিত স্থান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে উপজেলা সদর দফতর স্থাপন করতে হবে, যাতে উত্তর ফটিকছড়ির প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সহজে প্রশাসনিক সেবা পেতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমীন, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ বি এম সিদ্দিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় প্রতিনিধি শেখ জাহিদ ও মো: ইমাম উদ্দিনসহ এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।