‘ওরা আমাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে’—মৃত্যুর আগে বাবা-মাকে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নি। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়ে ভিডিও এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাথরুমের কাঠের মিমের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান বাবা মকবুল আলী।
গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুন্নির মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে-তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, ২০২৩ সালে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সাথে বিয়ের পর থেকেই মুন্নি শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। এসব বিষয় তিনি নিয়মিত বাবা-মাকে জানাতেন। তাদের এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের কথা বিবেচনা করে মুন্নি অনেক কিছু সহ্য করেই সংসার করছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের আরো অভিযোগ, সম্প্রতি স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে মুন্নির কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ঋণ করে ওই টাকা দেয়া হলেও আরো টাকার জন্য চাপ দেয়া হতো। একপর্যায়ে মুন্নি বাবা-মাকে তাকে মেরে ফেলার আশঙ্কার কথা জানান।
পরিবারের ভাষ্য, ২১ আগস্ট শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে মুন্নির বিরোধের পর তাকে নির্যাতন করা হয়। তখন তিনি ভিডিও এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। মেয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সাথে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে একজন ফোন করে তাকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
পরিবারের দাবি, লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মুন্নির মোবাইল ফোনটি নিয়ে। মৃত্যুর আগে যে ফোন থেকে তিনি বাবা-মাকে ভিডিও এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, সেটি এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ভিডিও, খুদে বার্তা ও কলের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবার আরো অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি নিয়ে হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি এবং একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে।
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গৃহবধূর মৃত্যুর লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



