‎বরকলে বন্যার পানি কমতে থাকায় বাড়িঘরে ফিরছেন বানভাসি মানুষ

‎বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Rangamati
সংগৃহীত

বন্যার পানি কমে যাওয়ায় জেলার বরকল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখন প্রায় দৃশ্যমান।

টানা বৃষ্টি ও উজানে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিন শতাধিক বসতঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার দুর্গম ভুষনছড়া, কলাবুনিয়া, কুকিছড়া, এরাবুনিয়া ও সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এক সময়ের ব্যস্ততম রাস্তাঘাট ও বাজার এখন কাদামাটি, ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি, দোকানঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া মালামাল, ডুবে যাওয়া পেঁপে বাগানসহ বিভিন্ন ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।‎

‎সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বরকল উপজেলার ভুষনছড়া, আইমাছড়া ইউনিয়নের তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে যায়। বানভাসি মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানে থাকা চাল, ডাল, তেল, কাপড়, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। অনেক দোকানের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।‎

‎শুধু বসতঘর নয়, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ফলজ বাগান ও মাছের ঘের। অনেক পরিবার এখনো ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের কৃষিজমি কয়েক ঘণ্টার বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে বাগান করা অনেকেই এখন দিশেহারা। দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে নতুন করে শুরু করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।‎

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

‎বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : বাসস