ইউরোপের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফেনীর দাগনভূঞার যুবক ফরিদুর রহমান বুলবুল (৩৫)।
হাঙ্গেরির একটি জঙ্গলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলা জানা যায়।
বুলবুল ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুণী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের সেজো ছেলে।
সাত বছর আগে তিনি চাচাতো বোন কহিনুর আক্তার পলিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ফারিহা নামে পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী কহিনুর বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুলবুল পূর্বে সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা মো: দুলালের সাথে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল ইউরোপে লোক পাঠানোর দালালির সাথে যুক্ত। ১৮ লাখ টাকার চুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে চেক ও নগদে দুলালকে পুরো টাকা পরিশোধ করেন বুলবুল।
গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বুলবুল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া দিয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেয়া হয় তাকে। সেখানে জঙ্গলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে কিছুদিন পূর্বে তিনি মারা যান।
নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন বুলবুলের সাথে তার শেষ কথা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বুলবুলের খবর নিতে ২৮ জুন ফেনীতে দুলালের বাড়িতে গেলে সঠিক তথ্য না দিয়ে আমাকে ঘোরানো হয়। পরে দুলাল জানান- বুলবুল হাসপাতালে আছেন, তবে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। নজরুল তার ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অভিযুক্ত দালালের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পরে গত রোববার (২১ জুলাই) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলে পরিবার তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, ফরিদুর রহমানের লাশ বর্তমানে হাঙ্গেরিতে রয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে ঠিকানা যাচাইয়ের নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে অবহিত করেছেন। আমরা এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরে বিস্তারিত জানিয়েছি। অবৈধভাবে এভাবে কাউকে বিদেশ যাওয়া উচিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হক জানান, বুলবুল অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিলো। এলাকার কারো সাথে তার কোনো বিরোধ ছিল না। দালালের খপ্পরে পড়ে ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে সে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে মারা যায়। তার এক কন্য সন্তান আছে ও স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন পরিবারের কী হবে আমরা সে চিন্তায় আছি।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক। এভাবে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিদেশ যাওয়া বোকামি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।



