ময়মনসিংহে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (মিশুক) ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক মো: নাজিম উদ্দিনকে হত্যার মামলায় পলাশ নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিল নামে অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাশকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে মিশুক চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন নাজিম উদ্দিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন আসামি দাপুনিয়া বাজার থেকে একটি মিলে যাওয়ার কথা বলে তার মিশুক ভাড়া করেন। পরে তাকে কোতোয়ালি থানার সুহিলা মধ্যপাড়া এলাকার কাদুরবাড়ী এলাকায় একটি স্যানিটারি কারখানার সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আসামিরা নাজিম উদ্দিনকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে মিশুকটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ মিশুকটি উদ্ধার করে এবং তোফায়েল আহমেদ নাসিমকে আটক করে। তদন্তে পলাশ ও শাকিলের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদেরও মামলায় আসামি করা হয়। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পলাশকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। একই ধারায় তোফায়েল আহমেদ নাসিম ও শাকিলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাশের সাজা কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আকরাম হোসেন বলেন, ‘মিশুক ছিনতাই করতে একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির বিবেচনায় নিয়ে আদালত দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়েই সন্তুষ্ট।’



