বাঁশখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতেই ক্ষতি ১০৪ কোটি টাকা, ভেঙেছে ১১ হাজার ঘরবাড়ি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে লোকালয় থেকে পানি নেমে গেলেও এখন বন্যার ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে।

Location :

Chattogram
বন্যায় বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউপির প্রেমাশিয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা
বন্যায় বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউপির প্রেমাশিয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা |নয়া দিগন্ত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে লোকালয় থেকে পানি নেমে গেলেও এখন বন্যার ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠছে।

সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই মানুষ সহায়তা নিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ছুটে আসছেন।

তবে সমন্বয়হীনতার কারণে ত্রাণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ত্রাণ বিতরণের চেয়ে এখন পুনর্বাসন সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা বেশি বলে বন্যাকবলিত বেশিরভাগ মানুষের দাবি।

বন্যায় বাঁশখালীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) একটি পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানটি শুক্রবার বিকেলে বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বাঁশখালী উপজেলার ২৬,৮০০ জন কৃষকের ৩,৪৪৬.৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৫২ কোটি ৭ লাখ টাকা। মৎস্য খাতে ৪,২০০টি পুকুর ও ৩১০টি চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রাণিসম্পদ খাতে ১,২৪০টি গবাদিপশুর খামার ও ৭৪০টি পোল্ট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ভয়াবহ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৫৮টি সড়ক। ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙেছে ৬০টি। সারফেসসহ মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্মরণকালের নজিরবিহীন এই বন্যায় উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ৫,১১০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে এবং ৬,০০০টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে বলে পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করে জানা গেছে। এর মধ্যে খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নে বেশি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১৭৫ মেট্রিক টন চাল, দশ হাজার একশত প্যাকেট শুকনো খাবার, সাত হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার, এক লাখ ত্রিশ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০০টি হাইজিন বক্স, ১৫৬টি জেরিকেন পানি ও পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয় বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। বেসরকারিভাবেও আনুমানিক আশি হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও পয়ত্রিশ হাজার প্যাকেট রান্নাকৃত খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রুহুল আমিন নয়া দিগন্তকে জানান, ‘প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় করে বন্যা পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। যেখানে পানি আটকে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দুই শতাধিক মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রশাসন দিনরাত একাকার করে কাজ করছে।’

বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন না হয়ে উল্টো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই বন্যা হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরপরই জলকদর খাল খনন কাজ শুরু করেছি এবং অকেজো স্লুইস গেট সংস্কারের ব্যাপারে সংসদে বক্তব্য দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। বন্যা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে আরও যা কারণ আছে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’