রাজশাহীতে আইএইচটির নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

দক্ষ ও মানবিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

‘আমরা জানি, তোমরা সবাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হবে। জনগণের যে প্রত্যাশা, একটি সুন্দর চিকিৎসাব্যবস্থা—সেটি তোমাদের হাত দিয়েই গড়ে উঠবে।’

রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
আইএইচটির নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনুসহ অন্যরা
আইএইচটির নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনুসহ অন্যরা |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও মনোযোগের সাথে পড়াশোনা করে দক্ষ ও মানবিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সুন্দর চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী আইএইচটির সম্মেলন কক্ষে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন। প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুন।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘তোমাদেরকে আগে নিজেদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এরপর সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, তোমরা সবাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হবে। জনগণের যে প্রত্যাশা, একটি সুন্দর চিকিৎসাব্যবস্থা—সেটি তোমাদের হাত দিয়েই গড়ে উঠবে।’

ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আইএইচটি থেকে পাস করে অনেকে সারা বিশ্বে সুনামের সাথে কাজ করছেন। গোটা এশিয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা ও মেধার সাথে কাজ করছেন।’

শিক্ষার্থীদের আরো উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এ দেশের জনগণ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমাদের সেই মা, যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মায়ের মূর্ত প্রতীকই হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আজকে আমাদের নেতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ তারেক রহমানের হাতে দেশের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন। তিনি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমরা সেই জাতি, যারা আমাদের মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। আমরা সেই জাতি, আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েও স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা হাতিয়ার তুলে নিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম। এরপর দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কট অনেকটাই সাময়িক। মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবেও এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’ এরপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সুন্দর সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’ তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে। এই দুর্নীতির কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, সেখান থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। একইসাথে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

বক্তারা বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

রাজশাহী আইএইচটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা: মো: মোফাখখারুল ইসলাম, আইএইচটি রাজশাহীর অধ্যক্ষ ডা: মো: মির্জা ওয়াসি পারভেজ, ড্যাব রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: মনোয়ার তারিক সাবু, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাকিন রায়হান রবিন, সদস্যসচিব মো. এমদাদুল হক লিমন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো: খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, এম-ট্যাব কেন্দ্রীয় সংসদের মহাসচিব মো: বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো: দবির উদ্দীন তুষার। অনুষ্ঠানে আইএইচটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।