ময়মনসিংহে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অটোরিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও লোক দেখানো অভিযানের কারণেই এই অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ানো অটোরিকশা
মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ানো অটোরিকশা |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে ভয়াবহভাবে বাড়ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবাধ বিচরণ। আইন ও বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মহাসড়কে চলাচল করছে এসব যানবাহন। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, দীর্ঘ হচ্ছে প্রাণহানির মিছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও লোক দেখানো অভিযানের কারণেই এই অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ময়মনসিংহের সাম্প্রতিক অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অনুপযোগী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইন অমান্য করেই এসব যানবাহন এখন ময়মনসিংহের মহাসড়কে প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অটোরিকশার অধিকাংশ চালক অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন। তারা ট্রাফিক আইন মানেন না, হঠাৎ ইউটার্ন, উল্টোপথে চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছেন। দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।

হাসপাতাল ও পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৮ জন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। শুধু জুন মাসেই প্রাণ গেছে ৪০ জনের, যাদের অধিকাংশই অটোরিকশার যাত্রী।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহে নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা চার হাজার ৯৯৮টি। তবে বাস্তবে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মহাসড়কে চলাচল করছে।

অভিযান প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো ফল দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই চালকরা খবর পেয়ে যান, ফলে সাময়িকভাবে মহাসড়ক এড়িয়ে চলেন। অভিযান শেষ হলে আবার আগের মতো চলাচল শুরু হয়।

বিআরটিএ ময়মনসিংহ অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল আইনে নিষিদ্ধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং সামনে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে জনমনে ভিন্ন ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অটোরিকশা মালিক ও চালকদের যোগসাজশের কারণেই এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। ফলে সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

অন্যদিকে চালকদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। অটোরিকশাচালক আব্দুর রহমান বলেন, ‘পেটের দায়ে ঝুঁকি নিই, উপায় নাই। এই গাড়ি চালিয়েই সংসার চলে।’

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অটোরিকশার উৎপাদন ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় এই অনিয়ম ও প্রাণহানি থামানো যাবে না।