সুন্দরবনে ৪ বনদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

Location :

Koyra
আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুরা
আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুরা |নয়া দিগন্ত

সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬ এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) তারা আত্মসমর্পণ করেন। সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত এবং বনজীবীদের জন্য নিরাপদ রাখতে র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে এ আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেছ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৬ সদর দফতর, খুলনা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগেও সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কয়েকটি দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও সামনে আসে।

এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-৬ গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা জোরদার করে। র‌্যাবের ধারাবাহিক তৎপরতা এবং দস্যু জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর আটজন রয়েছেন।

র‌্যাবের মতে, একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা কমার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরো সুদৃঢ় হবে।

র‌্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে তাদের যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।